পৃথিবীর জীববৈচিত্র্য গবেষণায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে, যেখানে দীর্ঘ একশ বছর পর পেঙ্গুইনের সম্পূর্ণ নতুন একটি প্রজাতির সন্ধান মিলেছে। বিজ্ঞানীরা বহুদিন ধরে পেঙ্গুইনের বিভিন্ন প্রজাতির বিবর্তন ও জিনগত বৈচিত্র্য নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছিলেন। অবশেষে তাদের এই দীর্ঘ প্রচেষ্টা সফল হয়েছে এবং পাখি জগতের এই জনপ্রিয় প্রাণীর নতুন একটি উপজাতি বা প্রজাতি শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব জেন্টু পেঙ্গুইন বা পাইগোসেলিস কারগুয়েলেনসিস নামের এই নতুন পেঙ্গুইনটি দেখতে প্রচলিত জেন্টু পেঙ্গুইনের প্রায় হুবহু অনুরূপ। বাহ্যিক শারীরিক গঠন, আকার-আকৃতি কিংবা রঙের দিক থেকে সাধারণ জেন্টু পেঙ্গুইনের সঙ্গে এদের কোনো দৃশ্যমান তফাত খুঁজে পাওয়া যায় না। খালি চোখে সাধারণ জেন্টু পেঙ্গুইন ও এই নতুন প্রজাতিকে আলাদা করা প্রায় অসম্ভব বলেই গবেষকরা জানিয়েছেন।
তবে বাহ্যিক মিল থাকলেও এদের মূল পার্থক্য ও স্বাতন্ত্র্য লুকিয়ে রয়েছে জিনগত গঠনে বা ডিএনএ-র ভেতরে। বিজ্ঞানীরা আধুনিক জিনোম সিকোয়েন্সিং এবং ডিএনএ বিশ্লেষণের মাধ্যমেই কেবল এই দুই প্রজাতির মধ্যকার ব্যবধান ধরতে সক্ষম হয়েছেন। এই ডিএনএ পরীক্ষা থেকেই স্পষ্ট হয়েছে যে, সাধারণ জেন্টু পেঙ্গুইন থেকে জিনগতভাবে সম্পূর্ণ আলাদা একটি স্বতন্ত্র ধারার প্রতিনিধিত্ব করছে এই নতুন আবিষ্কৃত প্রজাতিটি।
এই আবিষ্কারের ফলে পেঙ্গুইন পরিবারের ইতিহাস এবং অ্যান্টার্কটিকা ও এর আশেপাশের অঞ্চলের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের ধারণা আরও সমৃদ্ধ হবে। শতাব্দী প্রাচীন ধারণার অবসান ঘটিয়ে নতুন প্রজাতি শনাক্ত হওয়ার ঘটনাটি জীববিজ্ঞানের ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আগামী দিনে এই নতুন প্রজাতির আচরণ ও প্রজনন প্রক্রিয়া নিয়ে আরও গভীর গবেষণা চালানোর পরিকল্পনা করছেন সংশ্লিষ্ট গবেষকরা।