এস.এম.আব্দুর রাজ্জাক :

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার একটি জনবহুল গ্রামীণ রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে যেন 'মালিকবিহীন' হয়ে পড়েছে। টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলার ৪নং কুড়াগাছা ইউনিয়নের  চাপাইদ শিমলা পাড়া ব্রিজপাড় থেকে সেগুন বাগান পর্যন্ত (গুচ্ছগ্রাম থেকে শুরু) প্রায় ২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি এখন পরিণত হয়েছে মরণফাঁদে। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তাটিতে যান চলাচল তো দূরের কথা, পায়ে হাঁটারও কোনো উপায় থাকে না। অবহেলিত এই রাস্তার কারণে কার্যত 'রাস্তাহীন' হয়ে পড়েছেন গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ।

কৃষিপণ্য পরিবহনে স্থবিরতা ও কৃষকের ক্ষতি স্থানীয়রা জানান, মধুপুরের পাহাড়ি অঞ্চলে উৎপাদিত কৃষিপণ্য পরিবহনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এই সড়ক। প্রতিদিন শত শত ঘোড়ার গাড়িতে করে পাহাড় থেকে চাষাবাদকৃত ফসল এই রাস্তা দিয়েই মধুপুর শহরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়ে যান কৃষকরা। কিন্তু রাস্তাটির বেহাল দশার কারণে পণ্য পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। যাতায়াত ব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় পরিবহন খরচ বেড়ে যাচ্ছে এবং অনেক সময় ফসল বাজারে নিতে না পারায় উৎপাদিত কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা।

জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা একটু বৃষ্টি হলেই কাদাপানিতে একাকার হয়ে যাওয়া এই রাস্তাটি দিয়ে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, বয়স্ক ও অসুস্থ রোগীদের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই রাস্তাটির এমন করুণ দশায় হতাশ এলাকাবাসী।

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও কৃষকদের ফসলের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে গ্রামবাসী অবিলম্বে সড়কটি সংস্কারের জোর দাবি জানিয়েছেন। জনদুর্ভোগ লাঘবে তারা মধুপুর-ধনবাড়ী আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও মাননীয় মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন-এর বিশেষ সুদৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। একইসঙ্গে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নিতে মধুপুর উপজেলা প্রশাসনের কাছেও আকুল আবেদন জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।